সজনে পাতা খাওয়ার উপকারিতাগুলো কি কি?
‘আসলে সজনে পাতাকে এখন বলা হচ্ছে অলৌকিক পাতা। বিজ্ঞানীরা সজনে পাতাকে বলছেন অলৌকিক পাতা। কেন? এত কিছু থাকতে সজনে পাতাকে অলৌকিক পাতা বলা হচ্ছে কেন? সজনে পাতার যে ফুড ভ্যালু (খাদ্যমান), এর নিউট্রিশন (পুষ্টি), এর কনটেন্ট যেকোনো মানুষকে বিস্মিত করবে। সে কারণেই বিজ্ঞানীরা এখন বলছেন যে, এ সময়ের একটি অলৌকিক পাতা হচ্ছে সজনে পাতা।’
সজনে পাতা খাওয়ার নানাবিধ উপকারিতা এবং সেটি কীভাবে খেতে হয়, তা জানিয়েছেন কোয়ান্টাম হার্ট ক্লাবের কোঅর্ডিনেটর ডা. মনিরুজ্জামান, যেটি তার ভাষায় পাঠকদের সামনে তুলে ধরা হলো।
‘অলৌকিক পাতা’
আজকে আমরা এ সময়ের একটি সুপারফুড নিয়ে আলোচনা করব, যেটি বলা যেতে পারে এ সময়ের আলোড়ন সৃষ্টিকারী একটি গবেষণা। সেটি হচ্ছে সজনে পাতা; সুপারফুড সজনে পাতা।
সজনে পাতার নাম তো আমরা ছোটকাল থেকেই শুনেছি। সজনে খেতে খেতে বড় হয়েছি। সজনে পাতার ভর্তা খেয়েছি, শাক খেয়েছি। এ আবার এমন কিছু কী? এর মধ্যে নতুনত্ব কী আছে, যেটা নিয়ে আলোচনা হতে পারে?
আসলে সজনে পাতাকে এখন বলা হচ্ছে অলৌকিক পাতা। বিজ্ঞানীরা সজনে পাতাকে বলছেন অলৌকিক পাতা। কেন? এত কিছু থাকতে সজনে পাতাকে অলৌকিক পাতা বলা হচ্ছে কেন? সজনে পাতার যে ফুড ভ্যালু (খাদ্যমান), এর নিউট্রিশন (পুষ্টি), এর কনটেন্ট যেকোনো মানুষকে বিস্মিত করবে। সে কারণেই বিজ্ঞানীরা এখন বলছেন যে, এ সময়ের একটি অলৌকিক পাতা হচ্ছে সজনে পাতা।
কী আছে সজনে পাতায়
সজনে পাতায় আমিষ আছে ২৭ শতাংশ। অর্থাৎ এক কেজি সজনে পাতা যদি আপনি খান, তাহলে এর ২৭ শতাংশ, মানে কত? ২৭০ গ্রাম হচ্ছে আমিষ। ৩৮ শতাংশ হচ্ছে শর্করা (কার্বোহাইড্রেট)। ২ শতাংশ হচ্ছে ফ্যাট। ১৯ শতাংশ হচ্ছে ফাইবার বা আঁশ।
আমরা জানি যে, এখন ফাইবার বা আঁশকে খাদ্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ কম্পোনেন্ট হিসেবে চিহ্নিত করা হচ্ছে। আঁশ কোনো ঐচ্ছিক খাবার নয় যে, ইচ্ছা হলে খেলাম; ইচ্ছা না হলে খেলাম না।
ইট ইজ অ্যা ম্যান্ডাটোরি কম্পোনেন্ট (এটা আবশ্যিক উপাদান)। প্রত্যেক দিন আপনার খাদ্যতালিকায় যেন পর্যাপ্ত আঁশ থাকে এবং সেই সজনে পাতায় আঁশ আছে ১৯ শতাংশ।
অ্যামাইনো অ্যাসিডের উৎস
সজনে পাতায় অ্যাসেনশিয়াল অ্যামাইনো অ্যাসিড আছে আটটি। ভিটামিন ‘এ’ এবং ভিটামিন ‘সি’ আছে। রয়েছে প্রচুর পরিমাণ ক্যালসিয়াম। ম্যাগনেসিয়াম, পটাশিয়াম, জিংক, আয়রন এবং অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট। এতগুলো নিউট্রিয়েন্ট থাকার কারণে বিজ্ঞানীরা বলছেন যে, সজনে পাতা একটি অলৌকিক পাতা।
দুধের প্রায় সমান পুষ্টি
এটি (সজনে পাতা) যদি তুলনা করেন কোনো খাবারের সাথে, তাহলে আমরা সবচেয়ে জনপ্রিয় একটি খাবারের সাথে তুলনা করতে পারি। সেটি হচ্ছে গরুর দুধ। বিজ্ঞানীরা বলছেন, গরুর দুধের পুষ্টি এবং সজনে পাতার পুষ্টি অলমোস্ট কাছাকাছি।
আমরা উপমহাদেশে বা বাংলাদেশে গরুর দুধ কেন খাই, কিসের জন্য খাই? মূলত কী লক্ষ্যে খাই? গরুর দুধ আমরা খাই মূলত ক্যালসিয়ামের জন্য, প্রোটিনের জন্য, আমিষের জন্য। গরুর দুধ খেয়ে আমরা বলি, এটা একটা সুষম খাবার।
গরুর দুধ এবং সজনে পাতার মধ্যে পুষ্টিগত কোনো পার্থক্য নাই। গরুর দুধে যা আছে, সজনে পাতাতেও তা আছে। যে লক্ষ্যে আমরা মূলত গরুর দুধ খাই, সে পর্যাপ্ত ক্যালসিয়াম আছে সজনে পাতায়। পর্যাপ্ত আমিষও আছে।
ঔষধি গুণ
সজনে পাতার কিছু ঔষধি গুণ আছে এবং ঔষধি গুণের কারণে আর্থ্রাইটিস নিরাময়ে এটি দারুণ কার্যকর। ইতোমধ্যেই আমরা এক্সপেরিমেন্ট করেছি। যাদের হাঁটু ব্যথা আছে, সজনে পাতার জুস খান। সজনে পাতার ভর্তা খান অথবা গুঁড়া খান। ছয় মাস খান। দেখেন আপনার আর্থ্রাইটিসের কী অবস্থা হয়।
শরীরকে ডিটক্সিফাই করতে সাহায্য করে সজনে পাতা। আমরা জানি যে, আমাদের শরীরে ৭০ থেকে ১০০ ট্রিলিয়ন সেল বা কোষ আছে। প্রত্যেকটা কোষের ভেতরে লক্ষাধিক রিঅ্যাকশন হয় প্রত্যেক দিন; প্রতি মুহূর্তে এবং এই লক্ষাধিক ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়া, বিক্রিয়া হতে গিয়ে ভয়াবহ কিছু টক্সিন, কিছু বিষাণু, কিছু ক্ষতিকর পদার্থ সেলের ভেতরে তৈরি হয়। এগুলোকে আমরা বলি বর্জ্য পদার্থ, টক্সিন, ফ্রি রেডিক্যাল। এগুলো যদি সেলের ভেতরে থেকে যায়, আপনি কোনো দিন সুস্থ থাকতে পারবেন না। কেউ আপনাকে সুস্থ করতে পারবেন না।
এই বর্জ্য পদার্থকে বের করার জন্য আপনি সজনে পাতা খেতে পারেন। এটা দারুণ একটা ডিটক্স হিসেবে কাজ করতে পারে। আপনার শরীরকে ডিটক্সিফাই করবে এবং আপনারা এখন জানেন, আমরা সবাই জানি, বিশ্বব্যাপী এই ডিটক্স প্রোগ্রামগুলো দারুণ জনপ্রিয়তা পেয়েছে।
সাত দিন, ১৫ দিন আপনি একটা বিশেষ প্রোগ্রাম ফলো করবেন, বিশেষ খাবার খাবেন, আপনার শরীরে জমানো বর্জ্য পদার্থগুলো বেরিয়ে যাবে। তো সজনে পাতা সেই কাজটা করতে আপনাকে সাহায্য করবে। আপনার ভেতরের বর্জ্য পদার্থগুলো বের করে দেবে।
এক থেকে দুই চা চামচ সজনে পাতা যথেষ্ট আপনার পুষ্টির জন্য।
আজ না হলে কাল থেকে শুরু করুন। প্রতিদিন এক চামচ সকালে, এক চামচ রাত্রে। ছয় মাস পর আপনি আপনার স্ট্রেংথ, আপনার কর্মক্ষমতা দেখে নিজেই বিস্মিত হবেন।
☘️সুপার ন্যাচারাল সজনে পাতা/ মরিঙ্গার যত উপকারিতা:
✅ ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ করে।
✅ শরীরে কোলস্টরেল নিয়ন্ত্রণ করে।
✅ লিভার ও কিডনি সুস্থ রাখতে সহায়তা করে।
✅ উচ্চ রক্ত চাপ কমায়।
✅ হজম শক্তি বৃদ্ধি করে।
✅ রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে।
✅ হার্ট ভালো রাখতে সহায়তা করে।
✅ প্রতিদিন সকালে এক চামচ শুকনা গুড়া পানিতে গুলিয়ে খেলে পেটের প্রদাহ,গ্যাস্ট্রিক মুক্তি পাওয়া যায়।
পুষ্টিবীদগণের মতে.....
১.মানবদেহের প্রায় ২০% প্রোটিন, এর মাঝে মানুষের শরীরের যে ৯ টি এমাইনো এসিড খাদ্যের মাধ্যমে সরবরাহ করতে হয়, তার সবগুলোই মরিঙ্গা গুড়ার মধ্যে বিদ্যমান। এমাইনো এসিড শরীরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মেটাবোলিজম এবং অন্যান্য শারীরবৃত্ত্বীয় কার্যাবলী সম্পাদনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে।
২. এতে প্রচুর পরিমাণে জিঙ্ক থাকে এবং পালংশাকের চেয়ে তিন গুণ বেশি আয়রণ বিদ্যমান, যা এ্যানিমিয়া দূরীকরণে বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে।
৩. সজনে পাতার গুড়া ডায়াবেটিসের মত কঠিন রোগের বিরুদ্ধে কাজ করে। কারন এটি
শরীরে সুগারের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে দারুন কার্যকর।
৪.ডায়রিয়া,কলেরা,আমাশয় সহ জন্ডিস সারাতে এ পাতার জুড়ি মেলা ভার।
৫. সজনে শরীরে কোলেস্টেরল এর মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে ব্লাড প্রেশার কমাতে অন্যতম অবদান রাখে।
৬. ক্যান্সার সারাতে ও আর্থাইটিস নিরাময়ে খুবই উপকারী।
৭. এটি শরীরের হজম ক্ষমতা বৃদ্ধি করে পুষ্টিবর্ধক কারন এই পাতায় কমলার চেয়ে ৭ গুন বেশী ভিটামিন 'সি ' ও গাজরের চেয়ে ২ গুন বেশী ভিটামিন 'A' রয়েছে।
৮. ওটসের চেয়ে ৪ গুন বেশী ফাইবার থাকায় হজমে সহায়ক হয় এ পাতা তাই শরীরের ওজন কমাতেও ব্যায়ামের পাশাপাশি এটি বেশ কার্যকরী ভুমিকা পালন করে থাকে।
৯. মায়ের বুকের দুধ বৃদ্ধিতে সহায়তা করে কোন পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া ছাড়াই। পাতা থেকে তৈরি এক টেবিল চামচ পাউডারে ১৪% প্রোটিন, ৪০% ক্যালসিয়াম, ২৩% আয়রণ বিদ্যমান, যা এক থেকে তিন বছরের শিশুর সুষ্ঠু বিকাশে সাহায্য করে।
১০.গর্ভাবস্থায় এবং বুকের দুধ প্রদান কালীন সময়ে একজন মায়ের প্রতিদিনের আয়রণ এবং ক্যালসিয়ামে পটাশিয়ামের চাহিদা পূরণ করে থাকে।
১১. এটির এন্টি-ব্যাকটেরিয়াল বৈশিষ্ট্য বিদ্যমান। এটি যকৃত ও কিডনী সুস্থ্য রাখতে এবং ত্বকের বলিরেখা দুর করে, সৌন্দর্য বর্ধক হিসেবেও কাজ করে থাকে।
১২. সজনে-তে প্রায় ৯০টিরও বেশি এবং ৪৬ রকমের এন্টি-অক্সিডেন্ট বিদ্যমান।
১৩. এতে ৩৬ টির মত এন্টি-ইনফ্ল্যামমেটরি বৈশিষ্ট্য আছে। এছাড়াও এটি অকাল বার্ধক্যজনিত সমস্যা দূর করে এবং ক্যান্সারের বিরুদ্ধে সহায়ক ভূমিকা পালন করে।
১৪. বয়সে র ছাপ কমাতে, বয়স ধরে রাখতে ও ত্বকের বয়স বাড়তে বাধা দেয় এই নিউট্রুশনস সুপার ফুড খ্যাত পাতা র গুড়া।
এত বিশাল পরিমান নিউট্রিশন থাকায় গবেষকগণ বলতে বাধ্য হয়েছেন মরিঙ্গা একটি অলৌকিক পাতা বা মিরাকল ট্রি।
👉কিভাবে খাবেন?
👉জুস তৈরি করে খেতে পারবেন।
👉 ভর্তার সাথে মিক্স করে খেতে পারবেন।
👉 ডালের সাথে মিক্স করে খেতে পারবেন।
👉পানির গুলিয়ে খেতে পারবেন।
👉 চা বা কফি তৈরিতে সজিনা পাতার পাউডার ব্যবহার করা যায়।
অর্ডার করার জন্য নিচের লিংকে যেতে হবে।
https://www.facebook.com/AIGoodFood

Comments
Post a Comment